চট্টগ্রামে হালিশহরে মর্মান্তিক বিস্ফোরণ: শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 23 Feb, 2026
চট্টগ্রামের হালিশহরে বিস্ফোরণে শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। ভোরে হালিশহররের এইচ ব্লকের ”হালিমা মঞ্জিল’র তৃতীয় তলায় এই ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই ঘরটিতে আগুন ধরে যায় এবং শিশুসহ ৯জন আগুনে ঝলসে যায়। গুরুতর আবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বার্ণ হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সেহেরী খেয়ে অনান্য দিনের মত হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার বাসিন্দরা ডাইনিং টেবিলে অপেক্ষা করছিলেন ফজরের আযানের জন্য। আযান দিলেই নামাজে অংশ নিবেন। কিন্তু হঠাৎ বিকট শব্দে সব কিছুই এলোমেলো হয়ে যায়। ভেঙ্গেপড়ে বাসার সব আসবাবপত্রসহ জানালার কাঁচ। আগুনে ঝলসে যায় ওই ফ্ল্যাটে থাকা বাসিন্দরা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাদেও উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, বিস্ফোরণের বিষয়ে স্বজনদের দাবি ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় না। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, লিফট দুর্ঘটনা থেকে এই ঘটনা ঘটতে পারে।কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আশরাফুল আজিজ জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে রানী ও পাখি নামে দুই নারী এবং সাখাওয়াত নামের এক ব্যক্তির শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। এছাড়া একজনের ৮০ শতাংশ, একজনের ৪৫ শতাংশ এবং বাকিদের শরীর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের অবস্থা আশংকা জনক বলেও জানান চিকিৎসকরা।
স্বজনরা জানান, ওই ফ্ল্যাটটিতে মূলত দুই ভাইয়ের পরিবার থাকে। সম্প্রতি বিদেশ থেকে সাখাওয়াত হোসেন নামে তাঁদের আরেক ভাই দেশে এসে চিকিৎসার জন্য বাসাটিতে পরিবার নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এতে ওই পরিবারে থাকা সবাই দগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন, সাখাওয়াত হোসেন, মো. শিপন, মো. সুমন, মো. শাওন, মো. আনাস, মো. আইমান, চার বছর বয়সী আয়শা আক্তার , পাখি আক্তার ও রানী আক্তার।
বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জানান, ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো না; সেখানে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সরবরাহকৃত গ্যাসের সংযোগ ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে যায়। পরে সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণেই দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, দগ্ধদের সবারই শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের অবস্থা
বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে রানী ও পাখি নামে দুই নারী এবং সাখাওয়াত নামের এক ব্যক্তির শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। এছাড়া একজনের ৮০ শতাংশ, একজনের ৪৫ শতাংশ এবং বাকিদের শরীর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
দগ্ধ ব্যক্তিদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন মো. মকবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। দগ্ধ ব্যক্তিদের স্বজন পরিচয়ে তিনি বলেন, ওই বাসায় মূলত দুই ভাইয়ের পরিবার থাকে। তবে সম্প্রতি বিদেশ থেকে তাঁদের আরেক ভাই দেশে এসে চিকিৎসার জন্য বাসাটিতে পরিবার নিয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনটি পরিবারের সদস্যরাই বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

